বৃহৎ শক্তির সহায়তা ছাড়াই অন্তত ৬ মাস ‘তীব্র যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে সক্ষম ইরান- আইআরজিসি
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে অন্য কোনো বৃহৎ শক্তির সহায়তা ছাড়াই অন্তত ৬ মাস ‘তীব্র যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে সক্ষম বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
রোববার (৮ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।’
তার এই মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিপরীত। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং তারা যুদ্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার দাবি করা হয়। পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান। টানা কয়েক দিন ধরে চলা হামলা-পালটা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক স্থাপনা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করছে।
তার মতে, যেসব লক্ষ্য এখনো ইরানের হামলার তালিকায় নেই, সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এদিকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এই অভিযানে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে আইআরজিসি।
তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় ‘ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র’ এবং ‘এমাদ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়েছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে চলতে পারে। ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতির এই ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হয়।
সামরিক সাময়িকী মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উন্নত ‘ফাত্তাহ-২’ ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান প্রযুক্তিতে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।
অন্যদিকে চলমান সংঘাতে বিপুল ব্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধের খরচ দ্রুত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনাও বাড়ছে।
কমেন্ট বক্স